প্রস্তুতির সময় ছিল মাত্র এক মাস, দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের জন্য ফুটসাল একেবারেই নতুন। তবু বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা মেনেই আত্মবিশ্বাসের কথা শোনালেন বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ইতিহাসের প্রথম নারী সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে যাওয়ার আগে দল নিয়ে আশার কথাই জানালেন তিনি।
আগামী মঙ্গলবার মালদ্বীপ ও ভারতের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সাত দলের এই টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি), যেখানে প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রোববার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও প্রধান কোচ সাঈদ খোদারাহমি দলের লক্ষ্য ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
বর্তমান স্কোয়াডে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে আগেও ফুটসাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবিনার। ফুটবল মাঠে দেশের হয়ে দুইবার সাফ শিরোপা জেতানো এই ফরোয়ার্ড এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক খেলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে। সাবিনা বলেন, ‘ফুটবল খেলেই আমরা বড় হয়েছি। ফুটসাল আমাদের জন্য নতুন হলেও চেষ্টা আর আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই। দেশের হয়ে খেলাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
প্রস্তুতি নিয়ে বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেন তিনি। সাবিনার ভাষায়, ‘সময় কম ছিল, সেটি আমরা জানতাম। তবে যতটুকু সুযোগ পেয়েছি, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।’
দলের ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমিও একই সুরে কথা বলেন। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটসাল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় সব দলই প্রায় সমান অবস্থান থেকে শুরু করছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো ফুটসালের নির্দিষ্ট কাঠামো নেই। খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে অনুশীলনের জন্য আমরা মাত্র এক মাস সময় পেয়েছি। তবু এই যাত্রা শুরু করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী কোচ খোদারাহমি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বাংলাদেশ ফুটসালে অনেক দূর যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই অন্তত পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা হোক। মিয়ানমারের মতো দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুফল পাচ্ছে। বাংলাদেশও পারবে।’
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটসালে নাম লেখানো বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে চ্যালেঞ্জ বড়, তবে নতুন মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার প্রত্যয়ও কম নয়।