ইরানে চলমান সামরিক অভিযান তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ এখন প্রায় নাগালের মধ্যে এবং অভিযান শেষ হতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত ও নির্ধারক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তার ভাষায়, এই অভিযান এমন সাফল্য এনে দিয়েছে, যা অনেকের জন্য ‘অভূতপূর্ব’।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগের অবস্থান থেকেই কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি পুনরায় দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল—যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর আগেই তেহরান একাধিকবার জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও বলেন, ২০১৫ সাল থেকেই তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি নিয়েও আবার কথা বলেন ট্রাম্প। তার মতে, ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে না এলে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। যদিও এই চুক্তি হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে, যেখানে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে সম্মত হয় এবং এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সেই চুক্তি থেকে সরে আসে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াবে কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
৪৬