যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেও, সেই সময়ের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
মঙ্গলবার রাতকে ডেডলাইন হিসেবে সামনে রেখে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার শর্ত মেনে চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমনকি দেশটিকে ‘তছনছ করে দেওয়া’র হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতবিরোধ এতটাই গভীর যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এখনো কাটেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজেও ঘনিষ্ঠ মহলে স্বীকার করেছেন যে, এই সময়সীমার মধ্যে চুক্তি হওয়ার বিষয়ে তিনি খুব বেশি আশাবাদী নন। যদিও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শেষ মুহূর্তে বদলাতেও পারে—এমন সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে ইরানের অবকাঠামো—বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প। তবে এমন পদক্ষেপ নিয়ে তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই উদ্বেগ রয়েছে।
দলটির নেতাদের আশঙ্কা, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়বে। বিশেষ করে গ্যাসের দাম বাড়লে তা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভেট সাংবাদিকদের বলেন, “প্রেসিডেন্ট কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা কেবল তিনিই জানেন। খুব শিগগিরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
৪৩