শীত এলেই তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে শরীরেও শুরু হয় নানান পরিবর্তন। কারও জন্য এই সময়টা আরামদায়ক হলেও চিকিৎসকদের মতে, শীতকাল স্নায়ু ও হৃদ্রোগজনিত জটিলতার জন্য বেশ সংবেদনশীল। বিশেষ করে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি এ সময় তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। বয়স্ক ব্যক্তি ও যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তনের কারণে স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ে। কীভাবে এই ঝুঁকি তৈরি হয়, তা নিচে তুলে ধরা হলো—
রক্তনালীর সংকোচন
শীতকালে শরীর তাপ ধরে রাখতে রক্তনালী সংকুচিত করে। এর ফলে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় এবং রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত চাপ মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে—কখনো রক্তনালী ফেটে যাওয়ার, আবার কখনো জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়।
রক্ত ঘন হয়ে যাওয়া
ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্তের ঘনত্ব বাড়তে পারে। রক্ত যত ঘন হয়, ধমনীর ভেতরে ক্লট তৈরির সম্ভাবনাও তত বাড়ে। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোকের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া
শীতে অনেকেই ব্যায়াম বা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি কমিয়ে দেন। দীর্ঘ সময় অলস থাকলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা স্ট্রোকের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কারণ।
পানিশূন্যতা
ঠান্ডার সময় তৃষ্ণা কম লাগায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। এতে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, রক্ত আরও ঘন হয়ে পড়ে এবং রক্তচাপের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ
শীতকালে ঝাল ও লবণযুক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমিয়ে রাখে, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ চিনে রাখুন
চিকিৎসকেরা স্ট্রোক শনাক্তে FAST পদ্ধতি মনে রাখার পরামর্শ দেন—
F (Face): মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
A (Arms): হাত অবশ হয়ে যাওয়া বা তুলতে না পারা
S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া
T (Time): এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি
ঝুঁকি কমাতে করণীয়
শীতে শরীর গরম রাখুন, বিশেষ করে মাথা ও কান ঢেকে রাখুন। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন চালিয়ে যান। ঘরের ভেতরে হলেও হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি বজায় রাখুন। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন।