সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে শুক্রবারের এই হামলার তথ্য উঠে আসে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় ঘাঁটির কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবে দুই হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিমান পরিচালনায় কাজ করছে। রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে মার্কিন বাহিনী।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে দুই দেশের মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী সংলাপ হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন।
এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় একাধিক দেশে এই হামলার প্রভাব পড়ছে।
এর আগে মার্চের শুরুতেও একই ঘাঁটিতে হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে একজন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতে গত এক মাসে ৩০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
৫২