ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি দ্বিতীয় দফায় যে ৩৬টি আসনে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন স্থানীয় চার মনোনয়নপ্রত্যাশী।
মঙ্গলবার হোমনা পৌর সুপার মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বহিরাগত কাউকে প্রার্থী দিলে এ আসনে বিএনপির বিজয় হুমকির মুখে পড়তে পারে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান।
মনোনয়নপ্রত্যাশী এম এ মতিন খান, মাহফুজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং ওমর ফারুক মুন্না জানান, হোমনা–তিতাসের ভোটাররা সবসময় স্থানীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ—দল ঘোষিত প্রার্থী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তার রাজনৈতিক পরিচিতি সীমিত এবং পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তারা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তারা এতদিন কোনো প্রতিবাদে যাননি। তবে তৃণমূলের মতামত বিবেচনায় তারা এখন একমত—এ আসনে স্থানীয় নেতাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া উচিত। দল যাকে বেছে নেবে, তাকে বিজয়ী করতে সবাই একযোগে কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দেন তারা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তারা কুমিল্লা-২ আসনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তাদের বক্তব্য—সৎ, যোগ্য ও তৃণমূলভিত্তিক নেতাই এই আসনে ধানের শীষকে বিজয়ের পথে নিতে পারবেন।
তবে অন্য দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেলিম ভূঁইয়া অতীতে মামলা-হামলার মধ্যেও দলের পক্ষে কাজ করেছেন এবং কুমিল্লা অঞ্চলে বিএনপিকে সংগঠিত করতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তার আদি বাড়ি হোমনায় হলেও পরবর্তীতে এলাকা মেঘনা উপজেলায় পড়ে। বর্তমানে তিনি হোমনায় জমি কিনে এখানকার ভোটার হয়েছেন বলেও জানান তিনি।